ডিবিসি সংবাদের প্রতিবাদ

Written by Super User.

 

Press Release Pdf download

Press release video download

বিপিএ/ ২০২০/ অক্টোবর/১৪১০                                                                                                            ০৫ অক্টোবর ২০২০ ইং

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ) ২০০১ সাল হতে ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের সংগঠন হিসাবে কাজ করে আসছে। বিপিএ সরকার নিবন্ধিত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পেশাজিবীগণের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যা বৈশ্বিক ফিজিওথেরাপি সংস্থা “ওয়ার্ল্ড ফিজিওথেরাপি” তে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে এবং সরকারী নিয়ন্ত্রক সংস্থা “বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল” এর সদস্য। গত ৩ অক্টোবর ২০২০ইং, সকাল ১০.২৪ মিনিটে ডিবিসি নিউজে প্রকাশিত সংবাদ “সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে চাঁদাবাজি, অন্যতম হোতা রিজেন্টের সাহেদের স্ত্রী” প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের নজরে এসেছে। এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ অসত্য তথ্যের উপর প্রদত্ত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাই বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ) উক্ত সংবাদ প্রকাশিত করায় তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

প্রতিবেদনটির প্রথমে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন এর নাম ভুল করে “বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপিস্ট এসোসিয়েশন-বিপিএ” বলা হয়েছে যা প্রমাণ করে রিপোর্টটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং তাড়াহুড়া করে প্রস্তুত করা হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে প্রতিষ্ঠানটি “রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল এর নামে চাঁদাবাজি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ও এর অন্যতম হোতা মোহাম্মদ সাহেদের স্ত্রী”। বিষয়টি অসত্য তথ্য ও উপাত্তের উদ্দেশ্যমূলক অপবিশ্লেষন ও কাল্পনিক যোগাযোগ। বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ) ২০০৭ সাল থেকেই ফিজিওথেরাপিস্টদের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি করে আসছিল। এছাড়া বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন বাস্তবায়নে সংস্থাটি সরকারের শুরু থেকে সহায়তা করে আসছিল (পরিশিষ্ট-০১) । আইনটি পাশের দিনও সংসদ সদস্যগণ মহান জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের ভূমিকার প্রসংশা করেন। এ সকল কার্যক্রমে মোঃ সাহেদের কোন প্রকার সংযুক্তি ছিল না। সাহেদের স্ত্রী ডাঃ সাদিয়া আরাবী একজন ফিজিওথেরাপিস্ট ও বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের একজন সদস্য। বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে ২০১৮-২০২০ মেয়াদ মহিলা ও কল্যাণ সম্পাদক পদে জয়ী হন। এই কমিটি মেয়াদ সমাপ্ত হয়েছে, বর্তমানে তিনি এসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্য (পরিশিষ্ট ০২)। প্রতিবেদনের দ্বিতীয় প্যারায় উল্লেখ্য করা হয়েছে যে বিপিএ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নানা-অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। বিপিএ মনে করে এ বক্তব্য ভিত্তিহীন ও তার কোন প্রমাণ না থাকায় বিপিএর নানা-অপকর্মের প্রমাণ পেশ করার জন্য অনুরোধ করা হল।

প্রথম ছবিতে বিপিএর ২০২০ সনের নির্বাচনী তপসিলের ছবি দেয়া হয় এবং এখানে ভোটার হওয়ার যোগ্যতায় কাউন্সিল কন্ট্রিবিউশন সহ’ এই কথাটিকে হাইলাইট করা হয়েছে এবং মূল যুক্তিতে বিপিএ কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ) স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং এর কার্যক্রম পরিচালনায় অর্থের প্রয়োজন। এসোসিয়েশনের  কার্যক্রমের মধ্যে কাউন্সিল বিষয়ক বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, সিম্ফোজিয়াম আয়োজন, বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদান, পেশাগত কার্যক্রমে ও ফিজিওথেরাপি পেশার মান উন্নয়নে এডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং করা এবং বাৎসরিক ফি হিসেবে ওয়ার্ল্ড ফিজিওথেরাপিতে অনুদান প্রদান করা। এ সকল কাজে বিপিএর বাৎসরিক অর্থ খরচ হয় (পরিশিষ্ট ০৩), যা ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। এ জন্য বিপিএ তার সংবিধানের ধারা অনু্যায়ী সামর্থ্যবান  সদস্যদের নিকট হতে অন্যান্য অনুদান গ্রহণ করে। অনুদান ঐচ্ছিক, যারা যারা অনুদান দিতে পারেন না তারা আবেদন করলে আবেদন মওকুফও করা হয়। কাউন্সিল কন্ট্রিবিউশন বলতে বিপিএ কাউন্সিল না থাকায় ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের হয়রানীর বিরুদ্ধে ও পেশার অবনমন প্রতিরোধ করা মামলা পরিচালনা করা, কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নে ২৫টি সভা ৪ ট সেমিনার (২০১৭, ২০১৮,২০১৯, ২০২০) কার্যক্রমকে এককথায় বোঝানো হয়েছে (পরিশিষ্ট ৪)। বিপিএ ব্যাংক লেনদেন ব্যতিত কোন প্রকার ব্যক্তিগত লেনদেন করে না এবং প্রতি  বছর বিপিএ বহিঃস্থ অডিট ফার্ম দ্বারা এই অডিট নিষ্পত্তি করেন। এখানে দুর্নীতি বা চাঁদাবাজির কোন সুযোগ নাই। বিপিএর ১২০০ সদস্য থেকে মাত্র ২৫০ জন সদস্য মাসে ১০০ টাকা অনুদান দিয়ে আপডেট আছেন। এই পরিমান অর্থ প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় খুব সামান্য। এখানে যে কতিপয় ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন উনারা ইতিমধ্যে এসোসিয়েশন হতে বহিষ্কৃত এবং তাদের কাছে কোন ধরনের চাঁদা চাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তৃতীয় প্যারায় বলা হয় সাহেদের তৎপরতাই রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের সদস্যপদ পায় বিপিএ এবং এর ভয় দেখিয়ে ফিজিওথেরাপিস্টদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির দাবি করে’- যা সম্পূর্ণ অসত্ত্য ও বানোয়াট। উপযুক্ত প্রমাণ ব্যতিত এ তথ্য বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের জন্য মান হানির সামিল। নতুন প্যারায় বক্তব্য দেয়া হয় ডাঃ জাকারিয়া ফারুক যিনি বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের একজন বহিষ্কৃত সদস্য। বহিষ্কারের প্রতিশোধে তিনি ও তার সংগঠন বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে নানা কারন দেখিয়ে মামলা ও অপপ্রচারে সর্বদা লিপ্ত রয়েছেন। তারা যেহেতু বিপিএ-এর বহিষ্কৃত সদস্য তাই তাদের কাছে অনুদান চাওয়ার কথা না এবং চাওয়াও হয়নি। তিনি ডাঃ ফরিদউদ্দিন ও ডাঃ দলিলুর রহমান ২০০৯ সালের আগে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালের নির্বাচনে পরাজীত হবার পর তারা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন একই নামে আরেকটি সংগঠন দাড় করিয়ে পেশার বিভক্তি সৃষ্টি করেন। তারা একই নাম নিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ) মহামান্য সুপ্রিমকোর্টে তাদের নামের বিরুদ্ধে রিট দায়ের করেন ও আদালত নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দিলে “বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি এসোসিয়েশন” নামে নাম পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় (পরিশিষ্ট ০৬)। ডাঃ জাকারিয়া , ডাঃ ফরিদ ঊদ্দিন, ডাঃ দলিলুর রহমান ও তাদের ব্যক্তিগত আইনজীবি ব্যারিস্টার মো শাহাদাত আলাম এক সুরে মিথ্যাচার করেছেন। কারন তারা কাউন্সিলে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন কে সরিয়ে বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি এসোসিয়েশন এর সদস্যপদ বাস্তবায়নের হীন এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। অথচ বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল বাস্তবায়নের জন্য যখন বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ) কাজ করছিল তখন বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি এসোসিয়েশন রাস্তায় রিহ্যাবিলিটেসন কাউন্সিলের বিরুদ্ধে সমাবেশ ও পত্রিকায় নানা রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন (পরিশিষ্ট ০৭)। দ্বিতীয় ছবিতে সাদিয়া আরাবী রিম্মির ফেসবুক স্ক্রিনশট দেয়া হয়েছে। উনি বিপিএর ২০১৮-২০২০ সাল পর্যন্ত কার্যকরী পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের একজন সাধারণ সদস্য, নতুন কমিটিতে তিনি নেই (পরিশিষ্ট ০৮)।  

ডিবিসি নিউজের ষষ্ঠ প্যারায় বলা হয়েছে দেড় হাজার ফিজিওথেরাপিস্টদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিপিএ। তারা সংগঠনটির গোপন নথি হতে এ তথ্য পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি লিস্ট যা প্রতিবার নির্বাচনের আগেই বিপিএ ওয়েবসাইটে দেওয়া হয় (www. bpa-bd.org). এখানে সকল সদস্যদের মাসিক ১০০ টাকা হারে অনুদান ও উল্লেখিত কার্যক্রমে “বার্ষিক সাধারণ সভা ও কার্যকরী পরিষদের প্রকাশিত উন্মুক্ত নথি” অনু্যায়ী অনুদানের বকেয়া উল্লেখ থাকে যা যে কেউ দেখতে পারেন। প্রকাশিত ৪ ও ৫ নং ছবি সেই এক্সেল শিট যাতে মেম্বারদের কাছ থেকে অনুদানের বকেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত সর্বসাধারনের জন্ন্য উন্মুক্ত ছিল যাতে করে মেম্বারদের নিকট স্বচ্ছতা ও জবাব দিহীতা নিশ্চিত হয়। নবম প্যারায় উল্লেখিত মামলাটি বাংলাদেশ ফিজিক্যাল  থেরাপি এসোসিয়েশন এর করা একটি হিংসা মূলক মামলা যা সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয় যথাপোযুক্ত তদন্ত করে কিছু পায়নি। উল্লেখ্য বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি এসোসিয়েশন বিশ্ব ফিজিওথেরাপি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিজিওথেরাপি এর নিকট ও এইসব অভিযোগ এনে চারবার বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন এর সদস্য পদ বাতিল করার জন্য আবেদন করেন ও চারবার অসত্য প্রমাণিত হওয়ার পর ওয়ার্ল্ড ফিজিওথেরাপি কতৃপক্ষ এইসব হীন কাজ না করার জন্য ডাঃ দলিলুর রহমান, ডাঃ ফরিদ উদ্দিন ও তাদের সংগঠনকে নির্দেশনা প্রদান করে (পরিশিষ্ট ০৯)।

বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। পেশার কল্যাণে ও ফিজিওথেরাপি পেশার প্রসারে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন কোভিড ১৯ দুর্যোগে যে মহতী কার্যক্রম করেছে তা বিশ্ব ফিজিওথেরাপি সংস্থা কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। বিপিএর নির্বাচনে পরাজিত ও বিপিএ থেকে বহিষ্কৃত ডাঃ দলিলুর রাহমান, ডাঃ ফরিদ উদ্দিন, ডাঃ জাকারিয়া গং ব্যক্তিগত হিংসার বশবর্তী হয়ে অতীতের মত এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু ডিবিসি নিউজের মত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বিপিএ-এর সাথে সাহেদের সংপৃক্ততা দেখিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যা অপ্রত্যাশিত। বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ) আশা করে ডিবিসি নিউজ অনতিবিলম্বে সকল তথ্য বিবেচনায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

ডাঃ শাহদাত হোসেন (পিটি)                                                                                    ডাঃ সনজিত কুমার চক্রবর্তী (পিটি)

সাধারণ সম্পাদক                                                                                                 সভাপতি

ফোনঃ ০১৬১৫-৪৫১৫২৫                                                                                      ফোনঃ ০১৭৯৩-৫৫৭৮২৫

Partnership Organizations